সূরা আল ইমরান এর ফজিলত এবং শিক্ষা

সূরা আল ইমরান এর ফজিলত

সূরা আল-ইমরান পবিত্র কোরআনের তৃতীয় সূরা। এটি মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর আয়াত সংখ্যা ২০০। এই সূরার নামকরণ করা হয়েছে ইমরান পরিবারের নামে, যার সদস্যরা হলেন মুসা (আ.)-এর পিতা ইমরান, তার স্ত্রী হযরত মারিয়ম (আ.) এবং তার পুত্র হযরত ঈসা (আ.) সূরা আল-ইমরান একটি গুরুত্বপূর্ণ সূরা কারণ এতে ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলির উপর আলোকপাত করা হয়েছে। এই সূরায় আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলী, তার জ্ঞান ও ক্ষমতা, তার সৃষ্টি ও নিয়ন্ত্রণ, তার রহমত ও ক্ষমা, তার বিচার ও শাস্তি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও, এই সূরায় ঈমান, তাওহীদ, রিসালাত, আখিরাত, ইবাদত, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

সূরা আল ইমরান আয়াত ২৬-২৭ এর ফজিলত

সূরা আল ইমরানের ২৬-২৭ নং আয়াত হল:

তুমি যাকে ইচ্ছা করো তাকে ক্ষমতা দান করো এবং তুমি যাকে ইচ্ছা করো তাকে লাঞ্ছিত করো। নিশ্চয়ই তোমার হাতে কল্যাণ ও ক্ষতি। তুমিই সর্বশক্তিমান, প্রজ্ঞাময়।

এই আয়াত দুটিতে আল্লাহ তায়ালার ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা লাঞ্ছিত করেন। তাঁর হাতেই কল্যাণ ও ক্ষতি। তিনি সর্বশক্তিমান ও প্রজ্ঞাময়। এই আয়াত দুটির অনেক ফজিলত রয়েছে। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি প্রত্যহ ফজর ও মাগরিব নামাজের পর এই আয়াত দুটি সাত বার পাঠ করবে, সে ঋণমুক্ত হবে, শত্রু পরাস্ত হবে, উপার্জন বৃদ্ধি পাবে এবং সকল দিক দিয়ে সফলতা লাভ করবে। এছাড়াও, এই আয়াত দুটি পাঠ করলে আল্লাহ তায়ালার রহমত ও ক্ষমা লাভ করা যায়। এটি পাঠ করলে মনের প্রশান্তি ও আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়।

কিভাবে পাঠ করবেন

এই আয়াত দুটি পাঠ করার জন্য প্রথমে সূরা আল ইমরান খুলুন। তারপর ২৬-২৭ নং আয়াত দুটি পড়ুন। প্রতিটি আয়াত শেষে আমিন বলুন।এটি প্রত্যহ ফজর ও মাগরিব নামাজের পর সাত বার পাঠ করা যেতে পারে। এছাড়াও, প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজের পর এবং শোয়ার সময় সাতবার করে পাঠ করা যেতে পারে।

সূরা আল ইমরানের শেষ ১০ আয়াতের ফজিলত

সূরা আল ইমরানের শেষ ১০ আয়াত হল:

যারা তাদের রবের স্মরণে দাঁড়ায়, রুকু করে এবং সিজদা করে এবং সৎকর্ম করে এবং সৎকর্মের নির্দেশ দেয় এবং অসৎকর্ম থেকে নিষেধ করে এবং আল্লাহর সীমাসমূহ রক্ষা করে, তাদের জন্য শুভসংবাদ। পৃথিবীতে এবং আখিরাতে তাদের জন্য কোন ভয় নেই এবং আল্লাহ তাদেরকে নম্রতার সাথে ক্ষমা করবেন।

এই আয়াতগুলিতে আল্লাহ তায়ালার ইবাদত, সৎকর্ম, অসৎকর্ম থেকে বিরত থাকা এবং আল্লাহর সীমাসমূহ রক্ষা করার গুরুত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে। এই আয়াতগুলি পাঠ করলে মুমিনরা আল্লাহ তায়ালার কাছে নিকটবর্তী হতে পারে এবং তাঁর রহমত ও ক্ষমা লাভ করতে পারে।

এই আয়াতগুলির অনেক ফজিলত রয়েছে। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি প্রত্যহ সূরা আল ইমরানের শেষ ১০ আয়াত পাঠ করবে, সে কেয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সুপারিশকারী হবে।

এছাড়াও, এই আয়াতগুলি পাঠ করলে নিম্নলিখিত ফজিলতসমূহ লাভ করা যায়:

  • আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা লাভ করা যায়।
  • মনের প্রশান্তি ও আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়।
  • দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা লাভ করা যায়।
  • শত্রু পরাস্ত হয়।
  • ঋণমুক্ত হয়।
  • উপার্জন বৃদ্ধি পায়।

সূরা আল ইমরানের শানে নুযুল

সূরা আল ইমরান একটি মাদানী সূরা। এটি বিভিন্ন বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে কিছু শানে নুযুল নিম্নরূপ:

  • মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুওয়াত ও রিসালাতের স্বীকৃতি

সূরা আল ইমরানের প্রথম আয়াতগুলিতে মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুওয়াত ও রিসালাতের স্বীকৃতি সম্পর্কে বলা হয়েছে। এই আয়াতগুলি নাজরানের খ্রিস্টানদের বিতর্কের প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হয়েছিল।

  • ঈসা (আ.)-এর ঈমান ও তাওহীদ

সূরা আল ইমরানের ২৬-২৭ নং আয়াতগুলিতে ঈসা (আ.)-এর ঈমান ও তাওহীদ সম্পর্কে বলা হয়েছে। এই আয়াতগুলি ঈসা (আ.)-এর আহলে কিতাবদের সাথে বিতর্কের প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হয়েছিল।

  • আল্লাহর একত্ব ও সার্বভৌমত্ব

সূরা আল ইমরানের বেশ কয়েকটি আয়াতে আল্লাহর একত্ব ও সার্বভৌমত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে। এই আয়াতগুলি মুশরিকদের অজ্ঞতা ও ভ্রান্তির বিরুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল।

  • ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলি

সূরা আল ইমরানে ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলি, যেমন ঈমান, তাওহীদ, রিসালাত, আখিরাত, ইবাদত, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকর্ম থেকে নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এই আয়াতগুলি ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলির উপর মুসলমানদের জ্ঞান ও ধারণা বৃদ্ধির জন্য অবতীর্ণ হয়েছিল।

উপসংহারে বলা যায়, সূরা আল ইমরান একটি গুরুত্বপূর্ণ সূরা। এটি বিভিন্ন বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুসলমানদের জন্য অনেক শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে।

সূরা আল ইমরান তাফসীর

সূরা আল ইমরান পবিত্র কুরআনের তৃতীয় সূরা। এটি মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর আয়াত সংখ্যা ২০০। এই সূরার নামকরণ করা হয়েছে ইমরান পরিবারের নামে, যার সদস্যরা হলেন মুসা (আ.)-এর পিতা ইমরান, তার স্ত্রী হযরত মারিয়ম (আ.) এবং তার পুত্র হযরত ঈসা (আ.)।

সূরা আল ইমরানের মূল বিষয়বস্তু

সূরা আল ইমরানের মূল বিষয়বস্তু হল ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলি। এই সূরায় আল্লাহর একত্ব ও সার্বভৌমত্ব, মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুওয়াত ও রিসালাত, ঈমান, তাওহীদ, রিসালাত, আখিরাত, ইবাদত, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকর্ম থেকে নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

সূরা আল ইমরানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ আয়াত

সূরা আল ইমরানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আয়াত রয়েছে। এর মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আয়াত নিম্নরূপ:

  • আল্লাহর একত্ব ও সার্বভৌমত্বের ঘোষণা:

قُلۡ هُوَ اللّٰهُ اَحَدٌ ﴿۱﴾ اللّٰهُ الصَّمَدُ ﴿۲﴾ لَمۡ یَلِدۡ وَلَمۡ یُوۡلَدۡ ﴿۳﴾ وَلَمۡ یَكُنۡ لَّهٗ كُفُوًا اَحَدٌ ﴿۴﴾

বল, তিনি আল্লাহ, এক, আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁর জন্মও হয়নি। এবং তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। (আল-ইমরান ১-৪)

  • মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুওয়াত ও রিসালাতের ঘোষণা:

مَا كَانَ مُحَمَّدٌ اَبَاۤ اَحَدٍ مِّنۡ رِّجَالِكُمۡ وَلٰكِنۡ رَّسُوۡلَ اللّٰهِ وَخَاتَمَ النَّبِیّٖنَ وَكَانَ اللّٰهُ بِكُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمًا ﴿۴۰﴾

মুহাম্মদ তোমাদের পুরুষদের পিতা নন, কিন্তু তিনি আল্লাহর রাসূল এবং নবীগণের শেষতম। এবং আল্লাহ সবকিছু সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত। (আল-ইমরান ৪০)

  • ঈমানের গুরুত্ব:

اٰمَنَ الرَّسُوۡلُ بِمَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡهِ مِنۡ رَّبِّهٖ وَالۡمُؤۡمِنُوۡنَ کُلٌّ اٰمَنَ بِاللّٰهِ وَمَلٰۤىِٕكَتِهٖ وَکُتُبِهٖ وَرُسُلِهٖ لَا نُفَرِّقُ بَیۡنَ اَحَدٍ مِّنۡ رُّسُلِهٖ وَقَالُوۡا سَمِعۡنَا وَاَطَعۡنَا غُفۡرَانَکَ رَبَّنَا وَاِلَیۡکَ الۡمَصِیۡرُ ﴿۲۸۵﴾

**রাসূল তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছেন এবং মুমিনগণও। প্রত্যেকেই আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে। আমরা তাঁর রাসূলদের মধ্যে কাউকেও পার্থক্য করি না এবং তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং মেনে নিলাম। 

উপসংহার

সূরা আল ইমরান একটি গুরুত্বপূর্ণ সূরা। এটি ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলি সম্পর্কে আলোচনা করেছে। এই সূরার শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা অনুসরণ করলে মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারবে এবং দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা লাভ করতে পারবে।

এই সূরার শিক্ষাগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • আল্লাহর একত্ব ও সার্বভৌমত্বের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।
  • মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুওয়াত ও রিসালাতের স্বীকৃতি দেওয়া।
  • ঈমান, তাওহীদ, রিসালাত, আখিরাত, ইবাদত, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকর্ম থেকে নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে সচেতন হওয়া।

এই শিক্ষাগুলি অনুসরণ করে মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারবে এবং দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা লাভ করতে পারবে।

এছাড়াও, এই সূরার মাধ্যমে আমরা নিম্নলিখিত বিষয়গুলি শিখতে পারি:

  • আল্লাহ তায়ালা সর্বশক্তিমান ও প্রজ্ঞাময়।
  • মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর সর্বশেষ নবী।
  • ঈমান হল মুসলমান হওয়ার মূল ভিত্তি।
  • সৎকাজের আদেশ ও অসৎকর্ম থেকে নিষেধাজ্ঞা পালন করা জরুরি।

আল্লাহ আমাদের সকলকে সূরা আল ইমরানের শিক্ষাগুলি অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *